হোম ধর্ম মন্ত্রনালয় হজের সরকারি কোটা কমলো : মোট যেতে পারবেন ১ লাখ...

হজের সরকারি কোটা কমলো : মোট যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার

47
0

এবছর হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং অবশিষ্ট এক লাখ ২০ হাজার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করার সুযোগ পাবেন। চলতি বছরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে হজ চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য এই কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে এ বছর সরকারি কোটা কিছুটা কমানো হলো। যদিও বাংলাদেশের মোট হজের কোটা গত বছরের সংখ্যায়ই রয়ে গেছে। গত বছর সরকারি ব্যবস্থাপনার কোটা ছিল ১০ হাজার। তবে পরে কোটা পুরণ না হওয়ায় ওই কোটা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিয়ে দেয়া হয়। তবে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে চলতি বছরের সরকারি ব্যবস্থাপনারও হজের কোটা পুরণ হয়ে গেছে। কেউ প্রাক নিবন্ধন করতে চাইলে তা ২০১৯ সালের জন্য হবে।
রোববার সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে হজ চুক্তি চলতি বছরের হজের কোটার বিষয়টি জানান।
১৪ জানুয়ারি সৌদি আরবের মক্কায় এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও সৌদি-ওমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বেনতান।
অন্য বছরের মতো এবারও মোট শতকরা ৫০ ভাগ হজযাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিডেট এবং শতকরা ৫০ ভাগ সাউদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স বহন করবে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।
এবারের হজের জন্য এরই মধ্যে মুসল্লিরা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। মন্ত্রণালয় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করার পর চূড়ান্ত নিবন্ধন করবেন হজে যেতে ইচ্ছুকরা।
মতিউর রহমান জানান, ‘সৌদি আরব সরকার সম্প্রতি সে দেশের নাগরিকদের ওপর পাঁচ ভাগ ভ্যাট আরোপ করেছে। তা হজযাত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করতে চায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যেন বাংলাদেশি হজযাত্রীরা এ ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকেন’।
এক প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, গত বছর যেসব হজ এজেন্সি অনিয়ম করেছে, যাদের মাধ্যমে হজে গিয়ে বাংলাদেশিরা ফিরে আসেননি, চুক্তি অনুযায়ী সেবা দেয়নি এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তকাজ শেষ হলেই সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।
এক প্রশ্নের উত্তরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা সৌদি সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন তারা বিবেচনা করবেন।
পানিপথে জাহাজের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলেও সৌদি আরব এই প্রস্তাব অনুমোদন করেনি বলেও জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ বছর ভারত থেকে ৫-৭ হাজার হজযাত্রী জাহাজে সৌদি আরব যেতে পারবেন। জাহাজে করে হজে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। এটা জানার পর আমরাও জাহাজে করে হজযাত্রী পাঠানোর প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু সৌদি সরকার তা অনুমোদন করেনি। কারণ মুম্বাই থেকে জাহাজে করে সৌদি যেতে সময় লাগে মাত্র ৩-৪ দিন। কিন্তু বাংলাদেশের সময় লাগবে ১৭-১৮ দিন। খরচ কমানোর জন্যই এই আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু তারা অনুমোদন করেনি।’

তিনি বলেন, এবারের হজের জন্য এরই মধ্যে মুসল্লিরা প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। রেজিস্ট্রেশন করেছেন দুই লাখ ২৯ হাজার ৭৬৪ জন। এটা বাছাই করার পর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরুর কথা রয়েছে। যা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সংবাদ সম্মেলন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান, সিনিয়র তথ্য কমকর্তা আনোয়ার হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here