হোম হজ্ মীনায় অবস্থান নিচ্ছেন হাজীরা কাল আরাফাতে অবস্থান

মীনায় অবস্থান নিচ্ছেন হাজীরা কাল আরাফাতে অবস্থান

9
0

সৌদি আরবের হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী আজ ৮জিলহজ বুধবার হাজীদের মীনায় অবস্থান নিচ্ছেন। এরই মধ্য দিয়ে ৫ দিন ব্যাপী হজের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। কাল বৃহস্পতিবার ৯ জিলহজ মীনার তাবুতে ফজরের নামাজ পড়ে সেখান থেকে গিয়ে কয়েক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান নেবেন। ৮ জিলহজ মীনায় অবস্থান থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত ফরজ ওয়াজিব সুন্নাহসহ হাজীদের অনেকগুলো করনীয় পালনের বিষয় থাকলেও মুলত: আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজ বলা হয়।
আজ সকাল থেকেই ইহরামের কাপড় পরিধান করে ইহরাম বেধে হজযাত্রীরা মক্কা থেকে প্রায় ৭-১০ কিলোটার দুরে মীনা নামক স্থানে গিয়ে তাবুতে অবস্থান নিচ্ছেন। মূলত: এই স্থানে তাবুতে অবস্থান করেই হজের হজের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা সুন্নাত। ইহরাম বাধা হজের অন্যতম ফরজ। মক্কায় অবস্থানরত হাজীরা হেরেম শরীফ অথবা নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ইহরাম বাধবেন। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই হাজীরা মীনায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। হজ এজেন্সিগুলো মোয়াল্লিমের বাসের মাধ্যমে গতকাল থেকেই হাজীদের মিনার তাবুতে পৌছানো শুরু করেছেন। অনেকে আবার সকালে রওয়ানা দিয়ে মীনায় অবস্থান নেবেন। ৮জিলহজ মীনার তাবুতে অবস্থান নিয়ে জোহর, আসর, এশা, মাগরিব এবং পরের দিন ফজর পড়তে হবে। মীনায় রাত্রী যাপন সুন্নাত। মিনায় অবস্থানের দিনকে হজের প্রথম দিন বলা হয়।
আগামীকাল ৯জিলহজ বৃহস্পতিবার হাজীদের ফজর পড়েই আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে হবে। তবে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকেই হাজীদের আরাফাতের ময়দানের দিকে যাওয়া শুরু হবে। ৯ জিলহজ সুর্য্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। কেউ এই অবস্থান বাদ দিলে তার হজই হবেনা। আরাফাতের ময়দানে ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেয়া হবে এবং একই ওয়াক্তে পৃথকভাবে যোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন হাজীরা। মুসাফির হিসেবে নামাজ কসর (চার রাকাতের নামাজ দুই রাকাত) পড়া হবে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই হাজীদের আরাফাতের ময়দান ও মীনার মধ্যবর্তী স্থান মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।। সেখানে পৌছে এশার ওয়াক্তে এক আযান ও এক একামতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।। মুজদালিফা থেকে শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন হাজীরা। এখানে রাত যাপন করে ১০ জিলহজ শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়ে পুব আকাশ লাল হয়ে উঠা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করবেন। এরপর মীনায় গিয়ে জামারাতে বড় শয়তানকে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করবেন। ১১জিলহজ শনিবার সুবহে সাদেক পর্যন্ত বড় শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করা যাবে। কংকর নিক্ষেপ করে হাজীদের কুরবানী করতে হবে। তারপর মাথার চুল কামিয়ে বা ছোট করে ইহরাম ভাঙ্গবেন হাজীরা। শুক্রবার বার সৌদি ্আরবে ঈদুল আযহা। তাওয়াফে জিয়ারাতের জন্য মক্কায় যাবেন। এই তাওয়াফ ফরজ। এই তাওয়াফ পরেও করা যায়। একই সাথে সাফা মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে সায়ী করবেন। এটা ওয়াজিব। তাওয়াফ শেষে আবার মিনার তাবুতে ফিরে এসে রাত্রি যাপন করবেন। ১১জিলহজ শনিবার সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর থেকে জামারাতে গিয়ে প্রথমে ছোট তারপর মেঝো এবং সর্বশেষ বড় শয়তানকে কংকর নিক্ষেপ করবেন।। এরপর মীনায় রাত যাপন করা সুন্নাত। ১২ জিলহজ ও একই নিয়মে জামারাতে গিয়ে হাজীদের কংকর নিক্ষেপ করতে হবে। ওইদিন কংকর নিক্ষেপ করে হাজীরা চাইলে মক্কায় ফিরে যাবেন। যদি কেউ সূর্যাস্তের আগে মক্কায় না ফিরে আসেন তাহলে মীনায় রাত্রি যাপন করে ১৩ জিলহজ আরেক দফা জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করে হাজীরা মক্কায় ফিরে আসতেন। এভাবে হজের মুল কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর মক্কা ত্যাগ করার সময় হাজীরা বিদায়ী তাওয়াফ করবেন।
সৌদি সরকারের হিসাব অনুযায়ী এবার ২০ লাখের বেশী মানুষ হজ পালন করবেন। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে সৌদি আরব গেছেন ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪০জন। আভ্যন্তরীণ হাজী রয়েছেন ২ লাখ। এছাড়া বিনা অনুমতিতে হজ করতে যাওয়ার চেষ্টাকালে সৌদি পুলিশ ৪০ হাজার মানুষকে প্রেরত পাঠিয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২২০জন হজ পালনে গেছেন ( ব্যবস্থাপনাসহ)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here