হোম অতিথি কলাম নামের আগে হাজী, আলহাজ্ !

নামের আগে হাজী, আলহাজ্ !

10
0

ইসলামের পাঁচটি স্তরের মধ্যে সালাত ও হজ দুটি বিষয়। হজ প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে একবার ফরয। নামায আদায় করতে হয় দৈনিক পাঁচবার। হজ্ করে আসার পরে নামের শুরুতে হাজী ও আলহাজ শব্দটি ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।তবে দীর্ঘকাল থেকে নামায আদায় করলেও নামের আগে নামাযী বা মুসল্লি শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায় না।
হজ গুরুত্ব পূর্ণ ইবাদত হলেও এখন যেন ফ্যাশনের মতো রুপ নিয়েছে।কতিপয় ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ মাওলানা পরিচয়ধারী ব্যক্তিসহ ইমাম বক্তা ও পীরদের মাঝে হাজী বা আলহাজ্ শব্দের ব্যপক প্রচলন লক্ষণীয়। কেউ কেউ অতি উৎসাহি হয়ে ডাবল হাজী শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। এভাবে সূরা ফাতিহা শরীফ মুখস্ত বলতে পারলেই যদি ফাতিহায়ে হাফেজ বা হাফেজে ফাতিহা বলার প্রচলন শুরু হয়, তাহলে এক সময় প্রকৃত নাম খুঁজে পেতে দীর্ঘসময় লেগে যাবে। ডাবল আর ট্রিপলবাজ না হয়ে ঈমান আক্বীদাকে বিশুদ্ধ করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া দরকার। ডাক্তার হতে হলে যেমন এমবিবিএস পাস করতে হয় তেমনি ভাবে আলহাজ্ বা হাজী হতে হজ করতে হয়। হজের মত একটি বিষয়কে নিছক দুনিয়ার অন্যান্য কাজের মত মনে করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। ইবাদত করেই যদি উপাধি লাগানো হয় তাহলে যারা শুধু শুক্রবার জুমুয়ার নামায আদায় করে তাদের কি শুক্রাজামাত বলা হবে? মোটেই নয়। অনেকজনকে বলতে শুনছি “সব বক্তার নামের আগে আলহাজ্ আছে আমার নামের থাকবে না, তা হয় না”, “হজ করলে মাহফিলের প্রোগ্রাম বেশি পাওয়া যায়”, “টাকা পয়সা তো আর কম নেই, এমন হজ না করলে মানুষ খারাপ বলে”, অল্প বয়স হলেও হজ্ করে আসা উচিত। মানুষে বিশ্বাস করে তাড়াতাড়ি। পাশাপাশি ব্যবসাটাও ভালো হয়।”
পবিত্র হজ কবুল হওয়ার অনেক শর্ত রয়েছে। সে সব শর্তের দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। অন্যান্য ইবাদতের মতো হজ্ করার মধ্যেও অহঙ্কার থাকে। নামের আগে হাজী ও আলহাজ্ শব্দ ব্যবহার করাটা অধিকাংশ সময় অহঙ্কারের ব্যবহারিক রুপ।অথচ গর্ব-অহঙ্কার সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক বলেন,“আল্লাহ কোন আত্ম-আহঙ্কারী দাম্ভিক মানুষকে ভালোবাসেন না।” ( সূরা লোকমান;আয়াত ১৮), “নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক দাম্ভিক আত্ম-গর্বিত ব্যক্তিকে কখনো পছন্দ করেননি।” ( সূরা নিসা; আয়াত ৩৬) পবিত্র হাদীসে্যেএসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “যার অন্তরে বিন্দু পরিমান অহঙ্কার থাকবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।” ( মুসলিম শরীফ)
মানুষ অহঙ্কার করার অধিকার রাখে না। অহঙ্কার মহান আল্লাহর চাদর। এটাকে টানাহেঁচড়া করা উচিত নয়। কাউকে হাজী সাহেব বললে সমাজে তার প্রভাব বেড়ে যাবে, আস্থা বাড়বে। সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় প্রতারণার জাল ফেলবে, মানুষের মুখের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকবে। এমনি নিরর্থক চিন্তা করা নিতান্তই বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। হজ করতে অর্থ ও শারীরিক শক্তির প্রয়োজন রয়েছে। যা সলাত ও সাওমের জন্য প্রয়োজন হয় না। যারা হজ করতে যাবেন তাদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
প্রত্যেক ইবাদতের উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। {মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম }

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here